প্রকৃতির আপন ক্যানভাসে রক্তিম রঙে রাঙানো এক জাদুকরি প্রান্তর হলো সুনামগঞ্জের শিমুল বাগান (Shimul Bagan)। বসন্তের দপ্তরে যখন দুই হাজারের বেশি শিমুল গাছ ফুলে ফুলে লাল হয়ে ওঠে, তখন এর রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। ওপারে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়, মাঝে রূপবতী যাদুকাটা নদী এবং এপারে শিমুল ফুলের সমারোহ—সবমিলিয়ে এটি দেশের অন্যতম সেরা একটি পর্যটন আকর্ষণ।
১. ইতিহাস ও পটভূমি
- অবস্থান ও বিস্তৃতি: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার লাউয়ের গড় এলাকায় যাদুকাটা নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় একশ বিঘারও বেশি (২৪০০ শতক) জায়গা জুড়ে এই বাগানটি অবস্থিত।
- গড়ে ওঠার ইতিহাস: প্রায় ১৪ বছর আগে স্থানীয় এক ধনাঢ্য ও শৌখিন ব্যবসায়ী মরহুম জয়নাল আবেদীন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং শখের বশে এই বিশাল জমিতে শিমুল গাছ রোপণ করেন। পরবর্তীতে তাঁর এই শখের বাগানটিই আজকের বিখ্যাত শিমুল বাগানে রূপ নেয়, যা প্রতি বছর বসন্তে হাজার হাজার পর্যটককে আকর্ষণ করে।

২. ঢাকা থেকে যাতায়াত ব্যবস্থা
ঢাকা থেকে শিমুল বাগানে যাওয়ার দুটি জনপ্রিয় মাধ্যম রয়েছে:
ক. সরাসরি সড়কপথে:
- ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল বা মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে এনা, শ্যামলী বা হানিফ পরিবহনের বাসে সরাসরি সুনামগঞ্জ জেলা সদরে যাওয়া যায়।
- সুনামগঞ্জ নেমে নতুন ব্রিজের ওপার থেকে মোটরসাইকেল বা সিএনজি রিজার্ভ করে যাদুকাটা নদীর তীর বা বারেক টিলা পর্যন্ত যাওয়া যায় (মোটরসাইকেলে জনপ্রতি ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মতো হতে পারে)। নদী পার হওয়ার জন্য ৫ টাকা দিয়ে খেয়া পার হয়ে বারেক টিলায় পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে স্থানীয়দের নির্দেশনায় হেঁটে শিমুল বাগানে যাওয়া সম্ভব।
খ. ট্রেন ও বাস রুট (সিলেট হয়ে):
- ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাতের ট্রেনে (যেমন: রাত ৯:৫০ এর ট্রেন) চড়ে ভোরে সিলেট পৌঁছানো যায়।
- সিলেট রেলওয়ে স্টেশন বা শহর থেকে সিএনজি নিয়ে কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডে যেতে হবে। সেখান থেকে সুনামগঞ্জগামী বিরতিহীন বাসে (ভাড়া প্রায় ৯০-১০০ টাকা) চড়ে দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ পৌঁছানো যায়। এরপর আগের নিয়মে যাদুকাটা নদী পার হয়ে শিমুল বাগানে যাওয়া যায়।
৩. কোথায় থাকবেন (থাকার ব্যবস্থা)
শিমুল বাগান বা এর আশেপাশে বড় কোনো লাক্সারি হোটেল বা রিসোর্ট নেই। তাই আরামদায়ক ও নিরাপদ রাত্রিযাপনের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা শহরে ফিরে আসাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। শহরের স্টেশন রোড বা নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেশ কিছু ভালো মানের আবাসিক হোটেল (যেমন: হোটেল সারপিনিয়া, হোটেল নূর, হোটেল মিজান, সুরমা ভ্যালী রিসোর্ট ইত্যাদি) রয়েছে, যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে রুম পাওয়া যায়।
৪. সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: শিমুল বাগান ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কোনটি?
উত্তর: বসন্তকাল বা বিশেষ করে ফাল্গুন মাস হলো শিমুল বাগান ভ্রমণের সুবর্ণ সময়, যখন সমস্ত গাছ ফুলে ফুলে লাল হয়ে থাকে।
প্রশ্ন ২: শিমুল বাগানে প্রবেশের জন্য কি কোনো টিকিট লাগে?
উত্তর: সাধারণত বাগান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সামান্য প্রবেশমূল্য বা টিকিট ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
প্রশ্ন ৩: শিমুল বাগানের আশেপাশে আর কী কী দর্শনীয় স্থান রয়েছে?
উত্তর: শিমুল বাগানের পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক বারিক্কা টিলা, রূপবতী যাদুকাটা নদী, এবং একটু দূরেই বিশ্বখ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলাদ্রি লেক (টেকেরঘাট)।



