গ্রীনল্যান্ড রিল্যাক্সেশন উদ্যান হবিগঞ্জ
Bangladesh - Habiganj

গ্রীনল্যান্ড রিল্যাক্সেশন উদ্যান হবিগঞ্জ(Greenland Relaxation Park): ইতিহাস, যাতায়াত, আবাসন ও ভ্রমণ নির্দেশিকা

যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে দূরে একটু প্রশান্তি ও প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় গড়ে ওঠা গ্রীনল্যান্ড রিল্যাক্সেশন উদ্যান (Greenland Relaxation Park) হতে পারে আপনার একটি চমৎকার গন্তব্য। চা বাগানের সবুজ চাদরে ঘেরা এই পার্কটি ভ্রমণপিপাসু ও পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য দারুণ জনপ্রিয়। এই নিবন্ধে আমরা গ্রীনল্যান্ড পার্কের ইতিহাস, আকর্ষণ, যাতায়াত ব্যবস্থা, আবাসন এবং জরুরি কিছু প্রশ্নের উত্তর জানব।

গ্রীনল্যান্ড পার্ক কোথায় অবস্থিত?

গ্রীনল্যান্ড পার্ক (Greenland Park) হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও এলাকায় অবস্থিত। চা বাগানের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই পার্কে গেলে সবুজের একেবারে কাছাকাছি চলে যাওয়া যায়। চারপাশের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ, হ্রদ আর নানা প্রজাতির উদ্ভিদের সমাহার পর্যটকদের সহজেই মুগ্ধ করে।

ইতিহাস ও নামকরণের পটভূমি

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট অঞ্চলটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড় ও চা বাগানের জন্য সুবিদিত। স্থানীয় পর্যটন ও বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে এবং দর্শনার্থীদের প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসার লক্ষ্যে এই উদ্যানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সবুজ প্রকৃতি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে দর্শনার্থীদের মনে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি বা রিল্যাক্সেশন এনে দেয় বলেই এর নামকরণ করা হয়েছে ‘গ্রীনল্যান্ড রিল্যাক্সেশন উদ্যান’। সময়ের সাথে সাথে এটি হবিগঞ্জের একটি অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন ও পিকনিক স্পটে পরিণত হয়েছে।

পার্কের বিশেষ আকর্ষণসমূহ

গ্রীনল্যান্ড পার্কে ঘুরে দেখার মতো এবং উপভোগ করার মতো অনেক কিছু রয়েছে:

  • প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও চা বাগান: চা বাগানের কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই পার্কে রয়েছে অফুরন্ত সবুজ গাছপালা, বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।
  • লেক ও নৌকা ভ্রমণ: পার্কের ভেতরে রয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন লেক। এই লেকের জলে নৌকা দিয়ে ঘোরার পাশাপাশি সাঁতার কাটারও সুব্যবস্থা রয়েছে।
  • বাঁশের ঝুলন্ত সাঁকো: হাঁটার জন্য পার্কের ভেতরে রয়েছে একটি আকর্ষণীয় বাঁশের তৈরি ঝুলন্ত সাঁকো ও গোল চত্বর, যা দর্শনার্থীদের দারুণভাবে আনন্দ দেয়।
  • পিকনিক ও খাবার ব্যবস্থা: পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে পিকনিক করার জন্য এটি চমৎকার জায়গা। এখানে নান্দনিক রেস্টুরেন্ট রয়েছে, আবার চাইলে দর্শনার্থীরা বাইরে থেকেও খাবার সাথে নিয়ে যেতে পারেন।
  • শিশুদের রাইড: শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খেলার রাইড ও চত্বর, ফলে শিশুদের নিয়ে অনায়াসে এখানে সময় কাটানো যায়।
  • পাখিপ্রেমীদের স্বর্গ: পাখিপ্রেমীরা এখানে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ও বুনো পাখির দেখা পেয়ে যাবেন। এছাড়া বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতি সম্পর্কেও নতুন ধারণা লাভ করা সম্ভব।
Greenland Relaxation Park

ঢাকা থেকে কীভাবে যাবেন (যাতায়াত ব্যবস্থা)

ঢাকা থেকে খুব সহজেই সড়ক বা রেলপথে চুনারুঘাট বা শায়েস্তাগঞ্জ হয়ে গ্রীনল্যান্ড পার্কে যাওয়া যায়:

১. বাসযোগে: ঢাকার ফকিরাপুল, সায়দাবাদ বা মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সিলেট বা হবিগঞ্জগামী যেকোনো ভালো মানের বাসে (যেমন: এনা পরিবহন, শ্যামলী, হানিফ ইত্যাদি) চড়ে নামতে হবে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ বা চুনারুঘাট গোলচত্বর এলাকায়। ঢাকা থেকে বাসের ভাড়া সাধারণত ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। সেখান থেকে লোকাল সিএনজি, অটোরিকশা বা রিজার্ভ বাহনে চড়ে সরাসরি রানীগাঁও অবস্থিত গ্রীনল্যান্ড পার্কে পৌঁছানো যায়।

২. ট্রেনযোগে: ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর ট্রেনে (যেমন: পারাবত, জয়ন্তিকা, উপবন বা কালনী এক্সপ্রেস) চড়ে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে নামতে পারেন (ভাড়া ১২০ থেকে ৭৬৫ টাকা)। এরপর স্টেশন চত্বর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা রিজার্ভ করে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও-এর গ্রীনল্যান্ড পার্কে যাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন (কাছাকাছি আবাসন ব্যবস্থা)

গ্রীনল্যান্ড পার্কটি সাধারণত এক দিনের ডে-আউটিং বা ভ্রমণের জন্য আদর্শ জায়গা, তাই বেশিরভাগ পর্যটক একই দিনে ঘুরে ফিরে আসেন। তবে আপনি যদি হবিগঞ্জে রাত্রিযাপন করতে চান, তবে নিচের অপশনগুলো বেছে নিতে পারেন:

  • হবিগঞ্জ শহর ও শায়েস্তাগঞ্জ: হবিগঞ্জ জেলা সদর বা শায়েস্তাগঞ্জে বেশ কিছু সাধারণ মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে যেখানে রাত কাটানো সম্ভব।
  • শ্রীমঙ্গল বা সাতছড়ি এলাকা: গ্রীনল্যান্ড পার্কের কাছাকাছি পর্যটন এলাকা হিসেবে শ্রীমঙ্গল বা সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের চারপাশ বেশ সমৃদ্ধ। আপনি যদি আরও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা চান, তবে শ্রীমঙ্গলের কোনো রিসোর্ট, ইকো-কটেজ বা হোটেলে (যেমন: গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট, টি রিসোর্ট ইত্যাদি) থাকতে পারেন এবং সেখান থেকেও সহজে ঘুরে আসতে পারেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: গ্রীনল্যান্ড পার্ক পরিদর্শনের জন্য কি কোনো প্রবেশ ফি আছে?

উত্তর: হ্যাঁ, পার্কটিতে প্রবেশের জন্য সাধারণত সামান্য পরিমাণের টিকিট বা এন্ট্রি ফি প্রযোজ্য হয়।

প্রশ্ন ২: পার্ক ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি?

উত্তর: বছরের যেকোনো সময়ই এখানে যাওয়া যায়। তবে শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) আবহাওয়া সবচেয়ে আরামদায়ক থাকায় ভ্রমণের জন্য সেরা সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া ছুটির দিনগুলোতে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় একটু বেশি থাকে।

প্রশ্ন ৩: পার্কের ভেতরে কি খাবার পাওয়া যায়?

উত্তর: পার্কের ভেতরে নান্দনিক রেস্টুরেন্ট রয়েছে যেখানে হালকা খাবার ও স্ন্যাক্স পাওয়া যায়। তবে পরিবার নিয়ে বড় পরিসরে পিকনিক করতে চাইলে বা পছন্দমতো খাবার খেতে চাইলে বাইরে থেকে খাবার সাথে করে নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে ভালো।

Leave a Reply