যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা আর ক্লান্তি থেকে একটু স্বস্তি পেতে প্রকৃতি ঘেরা কোনো সুন্দর জায়গায় সময় কাটাতে চাইলে জামালপুরের অন্যতম আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র লুইস ভিলেজ রিসোর্ট এন্ড পার্ক (Luis Village Resort and Park) হতে পারে আপনার দারুণ এক পছন্দ। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহের অন্যতম জনপ্রিয় একটি স্থান। এই নিবন্ধে আমরা এই রিসোর্টের ইতিহাস, আধুনিক আকর্ষণ, যাতায়াত ব্যবস্থা, আবাসন এবং কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ) সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।
লুইস ভিলেজ রিসোর্ট এন্ড পার্ক কোথায় অবস্থিত?
লুইস ভিলেজ রিসোর্ট এন্ড পার্কটি জামালপুর জেলার সদর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র বেলাটিয়া এলাকায় অবস্থিত। জামালপুর শহর থেকে এর দূরত্ব খুব বেশি দূরে নয়, ফলে সহজেই যাতায়াত করা যায়।
ইতিহাস ও নামকরণের পটভূমি
প্রায় ১০ একর জমির ওপর ২০১৬ সালে এই মনোমুগ্ধকর পার্ক ও রিসোর্টটি গড়ে তোলা হয়। রাশিয়ার মস্কো প্রবাসী আতিকুর রহমান লুইস-এর ভ্রমণপিয়াসী, উচ্চমান সম্পন্ন রুচিবোধ ও পরিবেশবান্ধব ধারণার ওপর ভিত্তি করে এটি নির্মিত হয়। তাঁর নামানুসারেই এই পার্কের নামকরণ করা হয়েছে ‘লুইস ভিলেজ রিসোর্ট এন্ড পার্ক’। গ্রামীণ পরিবেশের মাঝে গড়ে ওঠা এই পার্কটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জামালপুর ছাড়ੀয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভ্রমণপিপাসুদের নজর কেড়েছে।
পারকের বিশেষ আকর্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা
চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গাছপালা ও সবুজাভ পরিবেশ পার্কটিকে অত্যন্ত মনোরম করে তুলেছে। এখানে ঘুরে দেখার ও উপভোগ করার মতো অনেক কিছু রয়েছে:
- আধুনিক রাইডস: শিশু-কিশোর ও সব বয়সিদের বিনোদনের জন্য এখানে বাম্পার কার, মেরী গো রাউন্ড, সুইং চেয়ার, মিনি ট্রেন, ফ্যামিলি ট্রেন, ওয়ান্ডার হুইল, জেড কোস্টার ও কফি কাপসহ প্রায় ১৪টি অত্যাধুনিক রাইড রয়েছে।
- লেক ও ওয়াটার রাইড: পার্কের ভেতরে একটি বড় পুকুর বা লেক রয়েছে, যেখানে ওয়াটার রাইড ও নৌকায় ঘোরার ব্যবস্থা রয়েছে।
- হস্তশিল্পের দোকান: এখানে এলে জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী ও খ্যাতনামা হস্তশিল্পের দোকানগুলো ঘুরে দেখার এবং কেনাকাটা করার সুযোগ পাবেন।
- কনভেনশন সেন্টার ও রেস্ট হাউস: যেকোনো পারিবারিক অনুষ্ঠান, পিকনিক কিংবা ব্যবসায়িক প্রোগ্রাম স্বাচ্ছন্দ্যে পালনের জন্য এখানে আধুনিক কনভেনশন সেন্টার ও রেস্ট হাউসের ব্যবস্থা রয়েছে।
খাওয়া-দাওয়ার সুব্যবস্থা
সবুজ চত্বরে ঘেরা এই পার্কের ভেতরেই রয়েছে উন্নতমানের রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুডের দোকান। এছাড়া জামালপুর শহরে খাওয়া-দাওয়ার জন্য বেশ কিছু চমৎকার দেশীয় ও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— মদিনা হোটেল, নিরিবিলি হোটেল, আড্ডা ক্যাফে, হোটেল শ্যামল বাংলা, মেক্সিকান হট সাবওয়ে, তাজ ক্যাফে এবং জেএফসি রেস্টুরেন্ট।
টিকেট মূল্য এবং সময়সূচি
- প্রবেশমূল্য: লুইস ভিলেজ রিসোর্ট এ্যান্ড পার্কে জনপ্রতি প্রবেশমূল্য মাত্র ১০০ টাকা।
- সময়সূচি: পার্কটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।

ঢাকা থেকে কীভাবে যাবেন (যাতায়াত ব্যবস্থা)
ঢাকা থেকে সড়ক বা রেলপথে খুব সহজেই জামালপুর লুইস ভিলেজ রিসোর্টে যাওয়া যায়:
১. ট্রেনযোগে: ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে তিস্তা এক্সপ্রেস, যমুনা এক্সপ্রেস বা ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে সরাসরি জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে নামতে পারেন। এরপর স্টেশন থেকে অটোরিকশা বা সিএনজি রিজার্ভ করে বেলাটিয়ায় অবস্থিত লুইস ভিলেজ পার্কে পৌঁছানো যায়।
২. বাসযোগে: ঢাকার মহাখালী বা গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ড্রিমল্যান্ড পরিবহন, রাজমহল বা অন্যান্য দূরপাল্লার বাসে চড়ে সরাসরি জামালপুর শহর বা বেলাটিয়া মোড়ে নামা যায়। এরপর সেখান থেকে লোকাল যানে চড়ে খুব সহজেই পার্কে যাওয়া সম্ভব।
কোথায় থাকবেন (কাছাকাছি আবাসন ব্যবস্থা)
আপনি যদি জামালপুরে রাত কাটাতে চান, তবে শহরের কাছাকাছি বেশ কিছু ভালো আবাসিক হোটেল রয়েছে:
- জামালপুর শহর: জেলা সদরে বেশ কিছু মানসম্মত সাধারণ ও মাঝারি মানের হোটেল রয়েছে (যেমন: হোটেল রিভার ভিউ, সার্কিট হাউস সংলগ্ন এলাকা বা শহরের অন্যান্য আবাসিক হোটেল)।
- রিসোর্ট স্টেম: লুইস ভিলেজ রিসোর্টের নিজস্ব রেস্ট হাউসে থাকার সুযোগ রয়েছে (কর্তৃপক্ষের সাথে আগে থেকে কথা বলে বুকিং নিশ্চিত করতে হবে)।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: লুইস ভিলেজ রিসোর্ট ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি?
উত্তর: বছরের যেকোনো সময়ই এখানে যাওয়া যায়। তবে বিকেলবেলা কিংবা শীতের মৌসুমে আবহাওয়া সবচেয়ে মনোরম থাকে এবং পুরো পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি সেরা সময়।
প্রশ্ন ২: পার্কে কি বাইরে থেকে খাবার নিয়ে প্রবেশ করা যায়?
উত্তর: সাধারণত পার্কের ভেতরে নিজস্ব রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুডের দোকান রয়েছে। তবে ছোট বাচ্চাদের খাবার বা বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে থেকে খাবার নেওয়ার ক্ষেত্রে পার্কের নিয়মকানুন আগে থেকেই জেনে নেওয়া ভালো।
প্রশ্ন ৩: কি ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য এই পার্ক উপযুক্ত?
উত্তর: পারিবারিক পিকনিক, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী কিংবা ছোট পরিসরের করপোরেট প্রোগ্রাম বা মিটিংয়ের জন্য এই রিসোর্ট ও কনভেনশন সেন্টার অত্যন্ত উপযোগী।



